তীব্র জলস্ফীতিতে বানভাসী বাংলার বিস্তীর্ণ এলাকা
আমার বাংলা অনলাইন নিউজ ডেস্ক: বৃষ্টি -তীব্র জলস্তর বৃদ্ধি ও ভরা কোটালের জেরেই বানভাসী হল বাংলার বিস্তীর্ণ এলাকা। মৌসুনি দ্বীপে “যশ” তাণ্ডব। বহু মাটির বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অন্যদিকে প্লাবিত বালিয়াড়ার বিস্তীর্ণ এলাকা। যশ-দাপটে উত্তাল সমুদ্র -নদী। তীব্র জলস্ফীতিতে বন্যা পরিস্থিতি।
যশ আছড়ে পড়ার আগে সন্দেশখালিতে কালো মেঘে ঢাকা থাকে আকাশ। নদীর জলস্তর বাড়তে থাকে। সমুদ্রের সঙ্গে ভেঙেছে নদী বাঁধও। জল ঢুকেছে খেজুরি সহ বিভিন্ন এলাকায়। মুড়িগঙ্গা নদীর বাঁধ ভেঙে জলমগ্ন হয়েছে কাকদ্বীপ ও সাগরের বিস্তীর্ণ এলাকা।
প্রশাসনিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে,একদিকে পূর্ণিমার ভরা কোটাল অন্যদিকে যশ ঘূর্ণিঝড়ের জেরে সমুদ্রের জলের স্তর অধিক বেড়ে যাওয়ায় কাকদ্বীপ, নামখানা,পাথরপ্রতিমা সহ সাগরদ্বীপের বাঁধ ভেঙে প্লাবিত করেছে এলাকা। জলমগ্ন হয়ে পড়ে বিস্তীর্ণ এলাকা।
ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শনে যাবেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ঘূর্ণিঝড় যশ নিয়ে সাংবাদিক বৈঠকে জানিয়েছেন তিনি। দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার একাধিক এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত। ভরা কোটালের জেরে জলস্তর বেড়ে সুন্দরবনের একাধিক জায়গা প্লাবিত হয়েছে। ওই সব জলমগ্ন এলাকা পরিদর্শনে যাবেন মুখ্যমন্ত্রী।
প্রশাসনিক সূত্রের খবর,শুক্রবার,২৮ মে হেলিকপ্টারে প্রথমে উত্তর চব্বিশ পরগণার হিঙ্গলগঞ্জ এলাকা পরিদর্শনে যাবেন মুখ্যমন্ত্রী ৷ এরপর তিনি যাবেন দক্ষিণ চব্বিশ পরগণার সাগরে ৷ পূর্ব মেদিনীপুরের দিঘায়ও যাবেন ৷ আকাশপথে ঘূর্ণিঝড় ও তার প্রভাবে জলস্ফীতিতে প্লাবিত এলাকাগুলি পরিদর্শন করবেন মু্খ্যমন্ত্রী ৷
এছাড়া সন্দেশখালি, সাগর ও দিঘাতে প্রশাসনিক পর্যালোচনা বৈঠক করবেন তিনি ৷ নবান্নে এমনটাই জানিয়েছেন রাজ্যের মুখ্যসচিব আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায় ৷ মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে এই সফরে থাকবেন মুখ্যসচিব সহ প্রশাসনের শীর্ষ কর্তা-ব্যক্তিরা।
দক্ষিণ ২৪ পরগনার সুন্দরবনেই বাঁধের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে ব্যাপক। ঘূর্ণিঝড় আছড়ে পড়ার কারণে মুড়িগঙ্গা নদীর উপর থাকা বাঁধ ভেঙে জলমগ্ন হয়ে পড়েছে কাকদ্বীপ ও সাগরের বিস্তীর্ণ এলাকা। সাগর ব্লকের কচুবেড়িয়া সাউঘেরি এখনও জলমগ্ন।
প্রশাসন সূত্রে বলা হয়েছে,পূর্ণিমার ভরা কোটালের সঙ্গে যশ-ঘূর্ণিঝড়ের কারণে সমুদ্রের জলের স্তর ব্যাপক বৃদ্ধি পায়। কাকদ্বীপ, নামখানা, পাথরপ্রতিমা ও সাগরদ্বীপের বাঁধ ভেঙে জলমগ্ন হয়েছে এলাকা। দিঘায় নেমেছে সেনা।
মন্দারমণি থেকে কপিল মুনি- ভাসল বাংলার বিস্তীর্ণ এলাকা। মূলত প্লাবিত হয়েছে প্রবল বৃষ্টি আর জলস্তর বৃদ্ধিতে। ভরা কোটালের কারণেই বানভাসী হল বাংলার বিস্তীর্ণ এলাকা।

